সংবাদদাতা:
এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় বোর্ড চ্যালেঞ্জের পরও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন এবং উত্তীর্ণদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’।
এ দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা, মানসিক চাপ কমানো এবং উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, এসএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর তার উচ্চশিক্ষা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অনেকাংশে নির্ভর করে। কিন্তু পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থী হতাশা, মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। উদ্বিগ্ন তাদের অভিভাবকেরাও।
সংগঠনটির মতে, একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সমাপ্তি নয়। শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধন, নতুন করে প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের পাশাপাশি পরীক্ষার সিলেবাস, মানবণ্টন, প্রশ্নপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এক বছর পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ ও ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে, অভিভাবকদের উদ্বেগ কমবে এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’ স্মারকলিপিটি উপস্থাপন করেছে।
সংগঠনটির প্রত্যাশা, একটি পরীক্ষার ফলাফল যেন কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের শেষ অধ্যায় হয়ে না দাঁড়ায়।
